বিকেলও হতে পারে আবার রাতও হতে পারে ঠিক নাই

বিকেলও হতে পারে আবার রাতও হতে পারে ঠিক নাই, ইরফান ফোন করে ওর ড্রাইভারকে গাড়ি

বের করতে বললো।তারপর দুইজন মিলে মারিয়ার বাড়ির দিকে রওনা দিলো।মারিয়া সারা রাস্তা কাঁদতে

কাঁদতে গেলো।মারিয়া গাড়ি থেকে নামতেই দেখলো বাড়ি উঠানে পাঁচটি লাশ রাখা।মারিয়া কান্না

জড়িত চোখে ধীর পায়ে লাশ গুলোর দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো।প্রতিটি লাশ মারিয়া দেখছে

আর চিৎকার করে কাঁদছে।সব শেষে নিজের ছেলে মেঘের লাশের পাশে গিয়ে বসে পড়লো।

আরও ভালবাসার গল্প পেতে ভিজিট করুউঃ todaylawfirm.com

বিকেলও হতে পারে আবার রাতও হতে পারে ঠিক নাই

ছেলের চেহারার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে।কি নিষ্পাপ লাগছে মারিয়ার কলিজার টুকরোটাকে।

হঠাৎ মারিয়া মেঘকে ওই অবস্থায় বুকে জড়িয়ে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।আর বলতে লাগলো

আমার তুই আমায় একা করে দিয়ে কেন চলে গেলি?তুই না সব সময় বলতে বড় হয়ে নাকি আমায়

আর কখনো কাঁদতে দিবি না তাহলে আজ আমায় কেন এভাবে কাঁদিয়ে চলে গেলি। মারিয়ার কান্না যেন

কিছুতে থামছে না।কয়েকজন মহিলা এসে মারিয়ার কোল থেকে ওর ছেলেকে ছাড়িয়ে নিলো।

মারিয়া ওভাবে ওখানে বসে থেকে কাঁদছে।ইরফান হুইল চেয়ারে বসে মারিয়াকে নানারকম কথা বলে

বুঝাতে লাগলো।এভাবে সবার হঠাৎ মৃত্যু হওয়ায় পুলিশ এসেছে তদন্তের জন্য।প্রত্যেকে লাশ গুলো পোস্টমর্টেম

করার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো আশেপাশের মহিলারা

বলাবলি করছে, এমন এক অপয়া মেয়েকে জন্ম দিয়েছে,যার প্রথম স্বামীর ভাত হয়নি, আবার দ্বিতীয়

স্বামীর ঘরে যেতে না যেতেই পুরো বাড়ির মানুষদের খেলো।ওরও মরা উচিত। সেখানে সামিউল উপস্থিত ছিলো।

সে ওই মহিলাদের কথায় রেগে গিয়ে বলে উঠলো আজব মানুষ তো আপনারা।একজন তার পরিবারের সকল

সদস্যদের হারিয়েছে।আপনারা কি আরো এই দুঃসময়ে তার পাশে দাড়াবেন তা না করে আগে বলছেন সে

খেয়েছে।আরে মৃত্যু কখন কার কিভাবে হবে সেটা কেউ বলতে পারে না আল্লাহ ছাড়া।যত্তসব মূর্খের দল।

নিজেদের সাথে এমন না পর্যন্ত কেউ বুঝবেন না। সামিউলের কথা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেলো।

বিকেলও হতে পারে আবার রাতও হতে পারে ঠিক নাই

সামিউলের এক বন্ধু মারিয়াদের পাড়ায় থাকে সে তার মাধ্যমে মারিয়ার মা-বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেখতে চলে আসে।

মারিয়াকে ওর পাশের বাড়ির আন্টি বাড়িতে নিয়ে গেলো।ইরফানও সাথে গেলো।মারিয়াকে দেখে সামিউলে অনেক খারাপ লাগছে।

সে কাছে থেকেও মারিয়ার এই দুঃসময়ের সঙ্গী হতে পারলো না।এমন সময় সামিউলের সেই বন্ধু ইসতিয়াক এসে বলল কি রে মন খারাপ করে আছিস কেন এমনি রে।বুঝতেই তো পারছিস।

কাল মেয়েটার বিয়ে হলো আর আজ মা বাবাকে হারিয়ে ফেললো।কতটা কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার।কিন্তু আপসোস ওর এই মুহুর্তে আমি পাশে থাকতে পারলাম না।

মন খারাপ করিস না।ওর পাশে এখন ওর হাসবেন্ড আছে।আর ওকে হয়তো তোর ফ্যামিলি মানতোও না।তাই এটা নিয়ে ভেবে লাভ নাই।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *